শিক্ষার্থীর বৃদ্ধি ও বিকাশের ধরন রচনাধর্মী প্রশ্ন :
শিক্ষার্থীর বৃদ্ধি ও বিকাশের ধরন রচনাধর্মী প্রশ্ন Bed 1st Semester Question Answer
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ১০)
বৃদ্ধি ও বিকাশকে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক উপাদানগুলি আলোচনা করুন। (Discuss the social factors which are affecting the growth and development.)
[উ] জীবনব্যাপী ক্রমোন্নতিশীল সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই হল বিকাশ। বিকাশের ফলে ব্যক্তি উৎকর্ষতার সলো কর্মসম্পাদনে সক্ষম হয়। বৃদ্ধির ফলেই বিকাশ ঘটে। কারণ পরিমাণগত পরিবর্তন ছাড়া গুণগত পরিবর্তনকে বিচার করা যায় না। আবার গুণগত পরিবর্তনকে বাদ দিয়ে পরিমাণগত পরিবর্তনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায় না। মানুষের বিকাশের কয়েকটি তর রয়েছে। একটি স্তর অন্যটির সলো অল্যালিঙ্গভাবে জড়িত। একটি ভরের সুষ্ঠু বিকাশ না ঘটলে অন্যটির বাঞ্ছনীয় উন্নতি ঘটে না। ব্যক্তির বিকাশ কখনও বন্ধ হয়ে যায় না এবং পূর্ব স্তরটি অলক্ষ্যেই পরবর্তী ভরে মিশে যায়। বিকাশের উপর প্রভাব বিস্তারকারী কতকগুলি উপাদান সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল-
(ক) দারিদ্র্য (Poverty)
সাধারণত দারিদ্র্য বলতে যে বিষয়গুলি বোঝায় সেগুলি হল-
[ক.১] জীবনযাপনের সমাজভিত্তিক স্বাভাবিক মানের অভাব।
[ক.২] জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বিষয়, যেমন-খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় মাত্রায় সংগ্রহ করতে না পারা।
[ক.৩] অর্থ, জমি, ঋণ ইত্যাদি আহরণে অসমর্থ।
[ক.৪] সম্পদের অভাবে সামাজিক সম্পর্কস্থাপন ও তা রক্ষার অক্ষমতা।
[ক.৫] নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে হতাশাগ্রস্ত অবস্থা।
সুতরাং শিশুর সুষম বিকাশের পথে একটি বিরাট বাধা হল দারিদ্র্য। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর দারিদ্র্যের প্রভাব নিম্নরূপ-
[১] দরিদ্র পরিবারের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের অন্তরায়।
[২] দারিদ্র্যের প্রধান প্রভাব পড়ে শিশুদের দৈহিক সুষম বৃদ্ধির উপর। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সঠিক পুষ্টিকর খাবার পায় না। ফলে দরিদ্র পরিবারের বেশিরভাগ শিশুই অপুষ্টিতে ভোগে।
[৩] অপুষ্টিজনিত রোগের ফলে শিশুর মধ্যে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে না।
[৪] প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বয়সে শিশুকে যে প্রতিষেধক (টিকা) দেওয়া প্রয়োজন দরিদ্র পরিবার অনেক সময় তারও ব্যবস্থা করতে পারে না। অর্থাৎ দারিদ্র্যতা শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর প্রত্যক্ষভাবে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।
[৫] দরিদ্র পরিবারের বেশিরভাগ পিতামাতা উভয়েই উপার্জনের জন্য নিযুক্ত থাকেন। তারা শিশুর ন্যূনতম পরিচর্যা করারও সময় পান না। ফলে তাদের শিশুরা নিজেদের বন্বিত মনে করে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে যা শিশুর মানসিক, সামাজিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
[৬] হীনমন্যতা, হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, ক্ষমতাহীনতা ইত্যাদি শিশুর মধ্যে বাসা বাঁধে।
[৭] আত্মনিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ, কৌতূহল, ভাষা, প্রেষণা, পেশির ব্যবহার ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা তৈরি হয়। ফলে সুস্থ সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
[৮] দরিদ্র পরিবারের শিশুরা অনেক সময় তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। চুরি করা, মিথ্যে কথা বলা, ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা যায়।
[৯] বিদ্যালয় শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাগ্রহণের জন্য যে মানসিক প্রস্তুতি শিশুর প্রয়োজন তা থেকেও তারা বঞ্চিত হয়।
[১০] দরিদ্র পরিবারের শিশুরা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবোধের অভাব থেকে নানাপ্রকার অপরাধমূলক আচরণ করে থাকে।
সুতরাং দারিদ্র্যতা শিশুর দৈহিক, মানসিক, প্রাক্ষোভিক, সামাজিক ইত্যাদি নানা দিকের বিকাশের উপরই নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। তবে পরিবারে শৃঙ্খলা থাকলে অভাববোধ বা প্রাচুর্য কোনোটাই শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় না।
(খ) সুযোগের অভাব (Lack of Opportunities)
প্রত্যেকটি শিশু জন্মসূত্রে কিছু ক্ষমতা, প্রবণতা ইত্যাদি প্রাথমিক মানসিক উপাদান নিয়ে জন্মায়। এই ক্ষমতা এবং প্রবণতাগুলির সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন সুযোগসুবিধা। রাষ্ট্র, সমাজ বা পরিবারের কাছ থেকে জীবনধারণের জন্য কিছু সাধারণ সুযোগসুবিধা পাওয়া শিশুর স্বাভাবিক অধিকার। এই সুযোগসুবিধাগুলি যখন শিশু সঠিকভাবে পায় না বা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় তখনই তাকে বলা হয় সুযোগের অভাব। কোনো শিশু যদি জীবনবিকাশের বিভিন্ন স্তরে নির্দিষ্ট সুযোগসুবিধাগুলি না পায় তাহলে তার স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অভাবে শিশুর বিকাশ কীভাবে ব্যাহত হয় তা নীচে আলোচনা করা হল-
আর্থিক সুবিধার অভাব (Lack of Economical Opportunities) : নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের খুব কম বয়সেই অর্থ উপার্জনের জন্য কাজে লাগানো হয়। লোকের বাড়িতে, দোকানে, কলকারখানায়, কৃষিতে, খনিতে ইত্যাদি কাজে এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুরা নিযুক্ত হয়। এই শিশুদের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাক্ষোভিক ইত্যাদি বিভিন্ন দিকের বিকাশই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পুষ্টির অভাব (Lack of Nutrition) : দরিদ্র পরিবারের মানুষ তাদের শিশুকে যথাযথ পুষ্টিকর খাবার দিতে পারে না। ফলে শিশুর দৈহিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন অপুষ্টিজনিত রোগ, যেমন-রিকেট, রক্তাল্পতা ইত্যাদিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পুষ্টির অভাবে শিশুর বৌদ্ধিক বিকাশও ব্যাহত হয়। আবার শৈশবেই অর্থ উপার্জনের জন্য কাজে নিযুক্ত হওয়ায় খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সুযোগ পায় না। ফলে দৈহিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
বাসস্থানের অভাব (Lack of Proper Housing) : দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী বেশিরভাগ মানুষেরই নিজেদের নির্দিষ্ট কোনো বাসস্থান থাকে না আর থাকলেও তা খুবই নিম্নমানের। ফলে এইসব পরিবারের শিশুরা নিশ্চিত বাসস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এইসব শিশুদের অনেক সময়ই ফুটপাথে বা প্ল্যাটফর্মে রাত্রিবাস করতে হয়। এইসব শিশুদের সার্বিক বিকাশ খুবই ব্যাহত হয়।
শিক্ষার অভাব (Lack of Education) : দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী শিশুরা উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। এইসব পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়স হওয়ার আগেই অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। এদের অভিভাবকদের পক্ষেও যথাযথ শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে এদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাবোধ বা স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি হয় না। শিক্ষার অভাবে এইসব শিশুদের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক এবং গ্রাক্ষোভিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
(গ) বঞ্চনা (Deprivation)
মানুষের জীবনধারণের জন্য যা প্রয়োজন তা না পাওয়ার অবস্থাকে বলা হয় বঞ্চনা। অর্থাৎ শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক বিষয়গুলি থেকে কোনো না কোনো কারণে তার দূরত্ব তৈরি হওয়া। যেসব কারণে শিশু বঞ্চিত হয় সেগুলি হল-
[গ.১] মা-বাবার স্নেহভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলে শিশুর দৈহিক, মানসিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
[গ.২] আর্থিক ও সামাজিক সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে শিশুর সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ সঠিক হয় না।
[গ.৩] সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা থেকে বঞ্চিত হলে শিশুর সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
(ঘ) বিচ্ছিন্ন পরিবার (Disrupted Family)
মানবসমাজে পরিবার হল একটি ক্ষুদ্র মৌলিক একক যা শিশুর প্রকৃতি ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। কালের নিয়মে সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারেরও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবারের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে অণু পরিবার তৈরি হয়েছে। শিল্পবিপ্লব, নারীমুক্তি আন্দোলন, যন্ত্রসভ্যতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণের শৈথিল্য, আর্থিক বিপর্যয়, মেয়েদের বেশি পরিমাণে কর্মে নিযুক্তি ইত্যাদি কারণে সমাজের মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে তা নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসাধ্য। সামাজিক এই অস্থিরতার প্রভাবে অনেক পরিবারেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন ভগ্ন পরিবার বা বিচ্ছিন্ন পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন পরিবার বলতে বোঝায়-
[১] যেসব পরিবারে বাবা-মা সবসময় ঝগড়া করে।
[২] বাবা-মার নিজেদের মধ্যে কোনো বোঝাপড়া নেই।
[৩] দুশ্চরিত্র মদ্যপ পিতা বা স্বার্থপর উদাসীন মার জন্য যে পরিবারে শাস্তি নেই।
[৪] মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনো কারণে শিশু অল্প বয়সে বাবা বা মাকে হারিয়েছে এমন পরিবার।
এইসব পরিবারের শিশুর সার্বিক বিকাশ বিভিন্নভাবে ব্যাহত হয়। ভালোবাসার অভাব, কঠোর শৃঙ্খলা, অবহেলা বা প্রবল শৃঙ্খলাহীনতা ইত্যাদি নানা কারণে শিশুর মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়। তারা প্রক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবেগের অস্থিরতার ফলে তারা অনেক সময় অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে।
(ঙ) নিম্নমানের প্রতিবেশিত্ব (Poor Neighborhood)
যে পরিবেশে শিশু বড়ো হয় তার চারদিকের পরিবেশ ও প্রতিবেশী শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সাধারণত প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুর বিকাশের উপর প্রভাব বিস্তারকারী এই জাতীয় উপাদানগুলি হল-
[১] প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব যেমন-প্রাকৃতিক বিপর্যয় (বন্যা, খরা)।
[২] সমবয়সি বন্ধু যেমন-সহপাঠী বা খেলার সাথিদের প্রভাব।
[৩] সংগঠিত সংস্থা যেমন ক্লাব, বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির প্রভাব।
[৪] বয়স্ক অভিজ্ঞ মানুষের অনভিজ্ঞতা ও অশিক্ষার প্রভাব।
[৫] সামাজিক অবস্থা যেমন-যুদ্ধ, অন্তর্বিপ্লব, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অর্থনৈতিক অবনতি, কুশিক্ষা, বহিঃশত্রুর আক্রমণ ইত্যাদির প্রভাব।
[৬] দেশবিভাগ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে স্থানচ্যুতি ঘটলে তার প্রভাব।
উপাদানগুলি যেভাবে শিশুর বিকাশকে প্রভাবিত করে তা নীচে আলোচনা করা হল-
[১] দূষিত প্রাকৃতিক পরিবেশ শিশুর বিকাশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, পিতামাতার দারিদ্রদ্র্য বৃদ্ধি পায়, ফলে নিরক্ষরতা বৃদ্ধি পায়।
[২] সমবয়সি বন্ধুদের প্রভাবে শিশুরা অনেক সময় চুরি করা, মিথ্যা কথা বলা, ড্রাগ খাওয়া, মাদকাসক্তির মতো অপরাধমূলক কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
[৩] যুদ্ধ, অন্তর্বিপ্লব, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক অবনতি, কুশিক্ষা, বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রভৃতি কারণে সমাজজীবন বিপর্যস্ত হলে শিশুর নৈতিক চরিত্র নষ্ট হয় এবং অপরাধপ্রবণতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
[৪] দেশবিভাগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ইত্যাদি কারণে স্থানচ্যুতি ঘটলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।
[৫] সমাজ পরিবর্তনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সমাজের এবং জীবনের প্রচলিত মূল্যবোধের প্রতি মানুষ আস্থা হারায়। এই সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণে সংগতির যে অভাব দেখা দেয় তার দ্বারা শিশুরা বিভ্রান্ত হয়। আস্থাহীন মূল্যবোধের ফলে শিশুরা অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ে।
[৬] প্রতিবেশীদের নীতিগত আদর্শ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকলে সমাজ গঠনের মৌলিক যোগসুত্রাবলি দুর্বল হয়ে পড়ে যা অসংযম ও আদর্শহীনতার রূপ নিয়ে শিশুর মনে প্রতিফলিত হয়। ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং সে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এই শিশুরাই অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
(চ) নিম্নমানের গৃহপরিবেশ (Poor Housing)
শিশুর গৃহ পরিবেশ তার বিকাশকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। যেমন-
[১] অবাঞ্ছিত নিম্নমানের গৃহপরিবেশ শিশুর বিকাশকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, প্রক্ষোভ ও সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে।
[২] নির্ভরযোগ্য কাঠামো, ন্যূনতম আধুনিক পরিসেবা (জল, ইলেকট্রিসিটি, শৌচালয়) বা দূষণমুক্ত গৃহপরিবেশ না হলে তা শিশুর দৈহিক, মানসিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
[৩] অস্বাস্থ্যকর, অপরিচ্ছন্ন গৃহপরিবেশ এবং গৃহে প্রয়োজনীয় স্থানাভাব শিশুকে গৃহের প্রতি বিরূপ করে তোলে। ফলে পরিবারের বন্ধন শিথিল হয় এবং মূল্যবোধ হ্রাস পায়।
[৪] পরিবারে শিশু যদি পিতামাতার যত্ন, ভালোবাসা ও মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে সে তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পরিতৃপ্ত করার জন্য নানাপ্রকার অপরাধমূলক আচরণ করে থাকে। তাকে শিক্ষার আওতায় আনাও সম্ভব হয় না।
[৫] অতিরিক্ত আদর বা মনোযোগ পেলেও শিশুর ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ব্যাহত হয়।
[৬] পিতামাতার বৈষম্যমূলক আচরণ শিশুর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে।
[৭] পরিবারের শৃঙ্খলাহীনতা শিশুকে স্বেচ্ছাচারী করে তোলে।
[৮] কঠোর নিপীড়নমূলক শৃঙ্খলা শিশুর আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধকে ক্ষুন্ন করে। ফলে শিশুর মধ্যে অসন্তোষ ও অতৃপ্তি দেখা দেয়। দেখা দেয় ব্যর্থতা, নিজের সম্পর্কে হীনম্মন্যতাবোধ এবং অপরাধপ্রবণতা।